পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম।
ইসলাম কি পৌত্তলিকতা মুক্ত?
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোস্ট কারো ধর্মমত কে হেয় করতে বা ধর্মানুভুতিতে আঘাত করার জন্য নয়।
বিজ্ঞজনেরা কোন প্রকার আহত হবার আশঙ্কা থাকলে অনুগ্রহপূর্বক এরিয়ে যান।
পোস্টের শিরোনাম অনুসারে দুইটি শব্দ এখন আগে ব্যক্ত করি যদিও এই বিষয়ে পাঠকেরা সকলে অবগত আছেন।
পৌত্তলিকতাঃ পৌত্তলিকতা হলো এরূপ একটি ধারনা বা রীতিনীতি, যেখানে উপাস্য দেবদেবীর সাকার রূপে কল্পনা করে উপাসনা পূজাকর্ম করা হয়। আদিকাল হতেই মানব সমাজে এরূপ ধারনা পাওয়া যায়। লাতিন শব্দ পেগানস থেকে এর উৎপত্তি। এটি মূলত একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, গ্রেকো রোমান বহুদেবতাবাদ হিসেবে ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকার খ্রিস্টান ধর্মের প্রসারের আগে বহু ঈশ্বরবাদী ঐতিহ্যে ব্যবহার করা হয়। ব্যাপক অর্থে, প্রসারিত সমকালীন ধর্মগুলোতে এটি অধিকাংশ পূর্বাঞ্চলীয় ধর্ম এবং আমেরিকা, মধ্য এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার আদিবাসী ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত; এবং সেইসাথে সাধারণভাবে অ-আব্রাহামিক লোকধর্মকেও এটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
একেশ্বরবাদী ইসলামঃ একেশ্বরবাদ ও ইসলাম দুটি শব্দ একত্রিত করে একেশ্বরবাদী ইসলাম বলা হয়েছে।
একেশ্বরবাদ বাদ বলতে বুঝি একটি প্রচলিত ধর্মীয় ধারণা, যার অর্থ হল ঈশ্বরের একত্ববাদে বিশ্বাস অর্থাৎ শুধু একজন ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস। এই ধারনায় বিশ্বাসীরা সৃষ্টিকর্তা, লালনকর্তা, পালনকর্তা অথবা সংহারকর্তা হিসেবে একটিমাত্র সত্ত্বায় বিশ্বাস ও তাঁর আরাধনা বা উপাসনা করে থাকে। খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম, ইহুদিধর্ম, বাহাই ধর্ম, জরাথ্রুস্ট্র ধর্ম, শৈব ধর্ম, শিখ ধর্ম , বৈষ্ণব ধর্ম প্রভৃতি হল একশ্বরবাদী ধর্ম।
ইসলামঃ ইসলাম অর্থ সমর্পনকারী, এক আল্লাহ ও তার প্রেরিত সর্বশেষ রাসুল মুহম্মদ(সঃ)এর উপর আনুগত্য করা। আব্রাহামিক ধর্মের নব্যমত। পাশ্চাত্য ইসলাম কে খ্রিস্টধর্মের বিকৃত রূপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। (যদিও 'বাহাই ধর্মমতকে' সর্বশেষ আব্রাহামিক ধর্মমত বলা হয়)
ইসলাম কি প্রকৃতই একেশ্বরবাদী ধর্ম?
এই প্রশ্নটি করলে ১৬০ কোটিরও বেশী ইসলাম ধর্মানুসারী যারা সারা বিশ্বে ছরিয়ে আছে। সবাই একবাক্যে স্বীকার করবে হ্যাঁ ইসলাম সৃষ্টিকর্তা আল্লার মনোনীত একমাত্র ধর্ম। আমরা এক আল্লায় বিশ্বাসী, আমরা তারই ইবাদত করি এবং মুহম্মদ আল্লার প্রেরিত রসুল।
ইসলামে প্রচলিত ধারা অনুযায়ী আল্লাহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উপর যে নবী রসূল প্রেরন করেছেন, সেসব নবী রসূলগণ ভিন্ন ভাষাভাষী উম্মাহর একেকজন পথ প্রদর্শক। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বংশ পরম্পরায় নবী রসূলের আগমনের কথাও প্রচলিত। এবং কুরানের ভাষ্যমতে মুহম্মদ হলেন সর্বশেষ নবী। তিনি নিজেকে নবী ইব্রাহিমের বংশধর এবং কি উত্তরসূরী।
হযরত ইব্রাহিম ছিলেন মূর্তিপূজক 'আযর' এর সন্তান। এবং কাবা ঘরের পুনর্নির্মাণকারী। ইব্রাহিম তার পিতার গড়া মূর্তি স্বহস্তে ভেঙে দেন। একেশ্বরবাদের প্রচার করেন।
কাবাঃ কাবা কি পৌত্তলিকদের দখলে চলে যায়? একেশ্বরবাদী আব্রাহামের মতানুসারীদের উপাসনা কেন্দ্র? নাকি পৌত্তলিকদের উপাসনা কেন্দ্র? আল্লাহ কেন আবাবিল পাখি দিয়ে আবরাহের হাতি বাহিনীর আক্রমন ভেস্তে দিয়েছিলেন যখন খোদ কাবার ভিতরেই মূর্তি পূজা করা হচ্ছিলো? মুহম্মদ কি পুরোপুরিভাবে পৌত্তলিকতা ত্যাগ করতে পেরেছিলেন.....?
ভাবুন পাঠক.....!!!
কাবাঘর নির্মানের সময় আদম কাবা ঘর এর আকার আকৃতি সপ্ত আসমানের উপরে অবস্থিত আল্লাহর উপাসনা ঘর 'বায়তুল মা'মুর' এর আকৃতিসদৃশ্য তৈরী করেন। ইব্রাহিম ও তার পুত্র ইসমাইল কাবার চারিকোণায় চারটি পাথর বসায় যেগুলো হলোঃ হাজরে আসোয়াদ(পূর্বদিকের কোনে), রূকন আল শামি(পশ্চিমাংশেরর কোনে), রূকন আল ইরাকি(উত্তর দিকের কোনে), রূকন ইয়ামিনি(দক্ষিণদিকের কোনে)।
ইসলাম পূর্ব সময়ে পৌত্তলিক আরবীয়রা কাবাঘরকে ছোটবড় প্রায় তিনশত ষাটটি মূর্তি দিয়ে ভরে তোলে তারা দৈনিক দুইবেলা এইসব মূর্তির উপসনা করতো। বাৎসরিক নির্দিষ্ট একটি সময়ে বড় ধরনের উৎসব পালন করতো শ্বেতশুভ্র বস্ত্র পরিধান, কাবাঘর প্রদক্ষিণ, হাজরে আসোয়াদ ও রূকন ইয়ামিনিতে চুম্বন, মাথা মুন্ডন, দেবদেবীর উদ্দেশ্যে পশু বলিদান এবং ওই বলিকৃত পশুর রক্ত দেবদেবীর মূর্তিতে মাখিয়ে দিতো।
মুহম্মদের নবুয়ত দাবির পূর্বে সে এগুলো দেখে অভস্ত্য ছিল। মদিনা হিজরত করবার পরে জেরুজালেম বা বায়তুল মুকাদ্দেস মূখী হয়ে সাহাবি, আনসার নওমুসলিমদের সাথে নিয়ে প্রার্থনা করতো, পরে কাবামূখী হয়ে প্রার্থনা করা শুরু করেন।
হাজরে আসোয়াদঃ হাজরে আসোয়াদ সম্পর্কিত মিথ যা এখনো বিশ্বাসীদের নিকট প্রচলিত গল্প আছে এই পাথর খোদ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহু প্রেরিত বেহেস্তি পাথর। প্রথমে এই পাথর দুধসাদা রঙের ছিল পরে মানুষের পাপ শোষন করতে করতে কালো রং ধারন করে! (পাপের রং কি বর্ণের এটা কি আল্লাহতালা বলেছিলেন?)
যেকোন বিশ্বাসী মুসলমান ভাই বোন বলেন হাজরে আসোয়াদে চুম্বন করা হলো প্রতীকী!
শয়তানকে প্রস্তরনিক্ষেপও হলো প্রতীকী! এর সাথে পৌত্তলিকতা মিশাইবেন না!😜
অনেক অন্ধবিশ্বাসী আছেন যারা, অর্থ-বিত্ত, স্বার্থ, ভাগ্যের জন্য, শনিরদশা, রাহুরদশা সহ নবগ্রহের কুদৃষ্টি হতে মুক্ত থাকতে হীরা, পান্না, চুনি ইত্যাদি বহুমূল্যবান পাথর ধারন করেন।
মানুষের পাপ মোচন করতে পারে কে ? একমাত্র ঈশ্বর। তো সেই কাল পাথরটাও যদি মানুষের পাপ মোচন করতে পারে বলে কুরাইশরা বিশ্বাস করে থাকে , তাহলে তারা কি অজান্তেই সেই কাল পাথরকে তাদের ঈশ্বর জ্ঞান করত না ?
মুহাম্মদ একেশ্বরবাদী ইসলাম চালু করলেও বাস্তবে তিনি কুরাইশদের সেই পাথর চুম্বন প্রথা বহাল রাখেন। আর তিনি এটাও বিশ্বাস করতেন যে , উক্ত পাথরের পাপ মোচন করার ক্ষমতা বিদ্যমান। সেটা দেখা যায় সহিহ হাদিসে -
তিরমিজি , হাদিস -৮৭৭: ইবনে আব্বাস বর্নিত, নবী বলেছেন , কাল পাথর যখন বেহেস্ত থেকে পতিত হয় তখন তা দুধের চাইতেও সাদা ছিল। মানুষের পাপ মোচনের ফলে সে কাল হয়ে গেছে।
তিরমিজি, হাদিস -৯৫৯: ওমর বর্নিত , আমি নবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন , কাল পাথর ও রুক ইয়ামানী উভয়কে স্পর্শ করলে মানুষের পাপ মোচন হয়।
উক্ত বিধান মেনে মুহাম্মদ নিজেও যখন কাবা ঘরে যেতেন , প্রথমে সেটাকে কেন্দ্র করে সাত পাক ঘুরতেন , তারপর গিয়ে অতি ভক্তি সহকারে কাল পাথরকে চুম্বন করতেন। কারন অন্য সবার মত তিনিও ছিলেন পাপী। আর সেই পাপ মোচনের জন্যেই তাকে বার বার কাল পাথরকে চুম্বন করতে হতো। মুহাম্মদ যে পাপী ছিলেন , তা জানা যায় কোরানেই -
সুরা আল মুমিন- ৪০: ৫৫: অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।
সুরা আল ফাতহ- ৪৮: ২: যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যত পাপসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।
সুতরাং নিয়মিত ভাবে মুহাম্মদ কাল পাথরকে চুম্বন করে তার পাপ মোচন করতেন। তার অর্থ , মুহাম্মদ উক্ত কাল পাথরকেই তার আল্লাহ হিসাবে কল্পনা করতেন পরোক্ষভাবে। কারন একমাত্র আল্লাহরই ক্ষমতা আছে পাপ মোচনের। এখন কাল পাথরেরও যদি সেই ক্ষমতা থাকে , তাহলে কাল পাথরই যে আল্লাহর প্রতিরূপ , তা অতি সাধারন কান্ডজ্ঞান যার আছে সেই বুঝতে পারে।
মুহাম্মদ তো এবার কাবা ঘরকে কিবলা করে মদিনায় তার দলবল সহ নামাজ পড়া শুরু করলেন, ভাল কথা। কিন্তু প্রশ্ন হলো , তখন কাবা ঘরের মধ্যে কি ছিল ? তখনও তো কাবা ঘরের মধ্যে ৩৬০ টা মুর্তি বহাল তবিয়তে ছিল। মদিনায় যাওয়ার দশ বছর পর মুহাম্মদ মক্কা ও কাবা ঘর দখল করেন, আর মদিনায় যাওয়ার সতের মাস পরে মুহাম্মদ কাবা ঘরকে কিবলা বানন। তার মানে মদিনায় অবস্থানরত মুহাম্মদ ও তার দলবল সাড়ে আট বছর যাবৎ ৩৬০টা মূর্তি ভর্তি কাবা ঘরকে কিবলা করেই নামাজ পড়েছেন। অর্থাৎ সজ্ঞানে তারা সেই মূর্তির কাছেই মাথা নত করে , নামাজ পড়েছেন। মক্কা দখলের আগে , মুহাম্মদ ও তার দলবল প্রায় প্রতি বছর হজ্জের সময় মক্কায় আগমন করতেন , আর তারা তখন সেই মুর্তি ভর্তি কাবাকেই সাতবার প্রদক্ষিন করতেন ও মুর্তি ভর্তি কাবার সামনে মাথা নত করে নামাজ পড়তেন। অর্থাৎ তারা সবাই সেই মূর্তির সামনেই মাথা নত করেন।
কথিত আছে , মুহাম্মদ মক্কা দখলের পর কাবা ঘরের সব মুর্তি ভেঙ্গে গুড়িয়ে বাইরে ফেলে দেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো , তার আগে যে তিনি মুর্তি ভর্তি কাবার সামনে মাথা নত করতেন ও নামাজ পড়তেন , সেটার কি হবে ? যদি মুর্তি ইসলামের কাছে এতই হারাম হয়ে থাকে , তাহলে মুহাম্মদ মক্কা বিজয়ের পর , কাবা থেকে সব মুর্তি বের করে দেয়ার পরেই সেটাকে কিবলা বানাতে পারতেন। তাহলে কিন্তু এই প্রশ্ন উত্থাপিত হতো না। কিন্তু সেটা তিনি তো করেনই নি , বরং অতি সজ্ঞানে , সচেতনভাবেই তিনি মুর্তি ও কাল পাথর ভর্তি কাবাকে কিবলা বানিয়েছেন। তিনি এতটাই সজ্ঞানে ও সচেতন ভাবে এটা করেছেন যে এক পর্যায়ে মুহাম্মদ এ সম্পর্কিত আয়াতও নাজিল করেছেন।
তার মানে মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত মুহাম্মদ একাধারে পাথরপুজারি ও মূর্তি পুজারী ছিলেন , তাই নয় কি ? মক্কা বিজয়ের পর মুর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলেছেন , কিন্তু কাল পাথরকে যথাস্থানে রেখেছেন। মুহাম্মদের দেখান পথে গত ১৪০০ বছর ধরে , লাখ লাখ মোমিন মুসলমান হজ্জের সময় কাবা ঘরে গিয়ে কাল পাথরকে চুমু খেয়ে পাপ মোচনের প্রান পন চেষ্টা করে থাকে। এমন কি তা করতে গিয়ে বেঘোরে কত মানুষের প্রান চলে যায়। কিন্তু সেই পাথরকে চুম্বন করতে হবেই , কারন সেটাই তা আসলে আল্লাহ , তাকে চুম্বন করে পাপ মোচনের সুযোগ কেউ বা হারাতে চায় ?
আপনার মাথার তিন পাউন্ড বা ১.৫ কেজি ওজনের ঘিলু খাটিয়ে একটু ভেবে উত্তর খুঁজতে থাকুন।
তালপাতার সেপাই।👣
http://facebook.com/http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=4944812028068367012
Subscribe to:
Posts (Atom)
পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম
পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম। ইসলাম কি পৌত্তলিকতা মুক্ত? সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোস্ট কারো ধর্মমত কে হেয় করতে বা ধর্মানুভুতিতে আঘাত ...
-
পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম। ইসলাম কি পৌত্তলিকতা মুক্ত? সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোস্ট কারো ধর্মমত কে হেয় করতে বা ধর্মানুভুতিতে আঘাত ...
-
তুমি উটমূত্রপায়ী জীব হলে, আমি গোমূত্রপায়ী জীব হব না কেনো? সম্প্রতি একটি খবর অনলাইনে বেশ আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে। খবর টি হলো ভারতীয় এক মূখ্...
-
মুহম্মদের সফলতার গোপন কারনসমূহ! মুহাম্মদের সফলতার গোপন কারন অনুবাদকঃ তালপাতার সেপাই। মূল The Secret of Muhammad success Writer: Ali Sin...