http://facebook.com/http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=4944812028068367012

Friday, 27 July 2018

পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম

পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম।

ইসলাম কি পৌত্তলিকতা মুক্ত?

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোস্ট কারো ধর্মমত কে হেয় করতে বা ধর্মানুভুতিতে আঘাত করার জন্য নয়।
বিজ্ঞজনেরা কোন প্রকার আহত হবার আশঙ্কা থাকলে অনুগ্রহপূর্বক এরিয়ে যান।

পোস্টের শিরোনাম অনুসারে দুইটি শব্দ এখন আগে ব্যক্ত করি যদিও এই বিষয়ে পাঠকেরা সকলে অবগত আছেন।

পৌত্তলিকতাঃ পৌত্তলিকতা হলো এরূপ একটি ধারনা বা রীতিনীতি, যেখানে উপাস্য দেবদেবীর সাকার রূপে কল্পনা করে উপাসনা পূজাকর্ম করা হয়। আদিকাল হতেই মানব সমাজে এরূপ ধারনা পাওয়া যায়। লাতিন শব্দ পেগানস থেকে এর উৎপত্তি। এটি মূলত একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, গ্রেকো রোমান বহুদেবতাবাদ হিসেবে ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকার খ্রিস্টান ধর্মের প্রসারের আগে বহু ঈশ্বরবাদী ঐতিহ্যে ব্যবহার করা হয়। ব্যাপক অর্থে, প্রসারিত সমকালীন ধর্মগুলোতে এটি অধিকাংশ পূর্বাঞ্চলীয় ধর্ম এবং আমেরিকা, মধ্য এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার আদিবাসী ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত; এবং সেইসাথে সাধারণভাবে অ-আব্রাহামিক লোকধর্মকেও এটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

একেশ্বরবাদী ইসলামঃ একেশ্বরবাদ ও ইসলাম দুটি শব্দ একত্রিত করে একেশ্বরবাদী ইসলাম বলা হয়েছে।
একেশ্বরবাদ বাদ বলতে বুঝি একটি প্রচলিত ধর্মীয় ধারণা, যার অর্থ হল ঈশ্বরের একত্ববাদে বিশ্বাস অর্থাৎ শুধু একজন ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস। এই ধারনায় বিশ্বাসীরা সৃষ্টিকর্তা, লালনকর্তা, পালনকর্তা অথবা সংহারকর্তা হিসেবে একটিমাত্র সত্ত্বায় বিশ্বাস ও তাঁর আরাধনা বা উপাসনা করে থাকে। খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম, ইহুদিধর্ম, বাহাই ধর্ম, জরাথ্রুস্ট্র ধর্ম, শৈব ধর্ম, শিখ ধর্ম , বৈষ্ণব ধর্ম প্রভৃতি হল একশ্বরবাদী ধর্ম।

ইসলামঃ ইসলাম অর্থ সমর্পনকারী, এক আল্লাহ ও তার প্রেরিত সর্বশেষ রাসুল মুহম্মদ(সঃ)এর উপর আনুগত্য করা। আব্রাহামিক ধর্মের নব্যমত। পাশ্চাত্য ইসলাম কে খ্রিস্টধর্মের বিকৃত রূপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। (যদিও 'বাহাই ধর্মমতকে' সর্বশেষ আব্রাহামিক ধর্মমত বলা হয়)

ইসলাম কি প্রকৃতই একেশ্বরবাদী ধর্ম?

এই প্রশ্নটি করলে ১৬০ কোটিরও বেশী ইসলাম ধর্মানুসারী যারা সারা বিশ্বে ছরিয়ে আছে। সবাই একবাক্যে স্বীকার করবে হ্যাঁ ইসলাম সৃষ্টিকর্তা আল্লার মনোনীত একমাত্র ধর্ম। আমরা এক আল্লায় বিশ্বাসী, আমরা তারই ইবাদত করি এবং মুহম্মদ আল্লার প্রেরিত রসুল।
ইসলামে প্রচলিত ধারা অনুযায়ী আল্লাহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উপর যে নবী রসূল প্রেরন করেছেন, সেসব নবী রসূলগণ ভিন্ন ভাষাভাষী উম্মাহর একেকজন পথ প্রদর্শক। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বংশ পরম্পরায় নবী রসূলের আগমনের কথাও প্রচলিত। এবং কুরানের ভাষ্যমতে মুহম্মদ হলেন সর্বশেষ নবী। তিনি নিজেকে নবী ইব্রাহিমের বংশধর এবং কি উত্তরসূরী।
হযরত ইব্রাহিম ছিলেন মূর্তিপূজক 'আযর' এর সন্তান। এবং কাবা ঘরের পুনর্নির্মাণকারী। ইব্রাহিম তার পিতার গড়া মূর্তি স্বহস্তে ভেঙে দেন। একেশ্বরবাদের প্রচার করেন।
কাবাঃ কাবা কি পৌত্তলিকদের দখলে চলে যায়? একেশ্বরবাদী আব্রাহামের মতানুসারীদের উপাসনা কেন্দ্র? নাকি পৌত্তলিকদের উপাসনা কেন্দ্র? আল্লাহ কেন আবাবিল পাখি দিয়ে আবরাহের হাতি বাহিনীর আক্রমন ভেস্তে দিয়েছিলেন যখন খোদ কাবার ভিতরেই মূর্তি পূজা করা হচ্ছিলো? মুহম্মদ কি পুরোপুরিভাবে পৌত্তলিকতা ত্যাগ করতে পেরেছিলেন.....?
ভাবুন পাঠক.....!!!
কাবাঘর নির্মানের সময় আদম কাবা ঘর এর আকার আকৃতি সপ্ত আসমানের উপরে অবস্থিত আল্লাহর উপাসনা ঘর 'বায়তুল মা'মুর' এর আকৃতিসদৃশ্য তৈরী করেন। ইব্রাহিম ও তার পুত্র ইসমাইল কাবার চারিকোণায় চারটি পাথর বসায় যেগুলো হলোঃ হাজরে আসোয়াদ(পূর্বদিকের কোনে), রূকন আল শামি(পশ্চিমাংশেরর কোনে), রূকন আল ইরাকি(উত্তর দিকের কোনে), রূকন ইয়ামিনি(দক্ষিণদিকের কোনে)।
 ইসলাম পূর্ব সময়ে পৌত্তলিক আরবীয়রা কাবাঘরকে ছোটবড় প্রায় তিনশত ষাটটি মূর্তি দিয়ে ভরে তোলে তারা দৈনিক দুইবেলা এইসব মূর্তির উপসনা করতো। বাৎসরিক নির্দিষ্ট একটি সময়ে বড় ধরনের উৎসব পালন করতো শ্বেতশুভ্র বস্ত্র পরিধান, কাবাঘর প্রদক্ষিণ, হাজরে আসোয়াদ ও রূকন ইয়ামিনিতে চুম্বন, মাথা মুন্ডন, দেবদেবীর উদ্দেশ্যে পশু বলিদান এবং ওই বলিকৃত পশুর রক্ত দেবদেবীর মূর্তিতে মাখিয়ে দিতো।
মুহম্মদের নবুয়ত দাবির পূর্বে সে এগুলো দেখে অভস্ত্য ছিল। মদিনা হিজরত করবার পরে জেরুজালেম বা বায়তুল মুকাদ্দেস মূখী হয়ে সাহাবি, আনসার নওমুসলিমদের সাথে নিয়ে প্রার্থনা করতো, পরে কাবামূখী হয়ে প্রার্থনা করা শুরু করেন।
হাজরে আসোয়াদঃ হাজরে আসোয়াদ সম্পর্কিত মিথ যা এখনো বিশ্বাসীদের নিকট প্রচলিত গল্প আছে এই পাথর খোদ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহু প্রেরিত বেহেস্তি পাথর। প্রথমে এই পাথর দুধসাদা রঙের ছিল পরে মানুষের পাপ শোষন করতে করতে কালো রং ধারন করে! (পাপের রং কি বর্ণের এটা কি আল্লাহতালা বলেছিলেন?)
যেকোন বিশ্বাসী মুসলমান ভাই বোন বলেন হাজরে আসোয়াদে চুম্বন করা হলো প্রতীকী!
শয়তানকে প্রস্তরনিক্ষেপও হলো প্রতীকী! এর সাথে পৌত্তলিকতা মিশাইবেন না!😜
অনেক অন্ধবিশ্বাসী আছেন যারা, অর্থ-বিত্ত, স্বার্থ, ভাগ্যের জন্য, শনিরদশা, রাহুরদশা সহ নবগ্রহের কুদৃষ্টি হতে মুক্ত থাকতে হীরা, পান্না, চুনি ইত্যাদি বহুমূল্যবান পাথর ধারন করেন।
মানুষের পাপ মোচন করতে পারে কে ? একমাত্র ঈশ্বর। তো সেই কাল পাথরটাও যদি মানুষের পাপ মোচন করতে পারে বলে কুরাইশরা বিশ্বাস করে থাকে , তাহলে তারা কি অজান্তেই সেই কাল পাথরকে তাদের ঈশ্বর জ্ঞান করত না ?

মুহাম্মদ একেশ্বরবাদী ইসলাম চালু করলেও বাস্তবে তিনি কুরাইশদের সেই পাথর চুম্বন প্রথা বহাল রাখেন। আর তিনি এটাও বিশ্বাস করতেন যে , উক্ত পাথরের পাপ মোচন করার ক্ষমতা বিদ্যমান। সেটা দেখা যায় সহিহ হাদিসে -

তিরমিজি , হাদিস -৮৭৭: ইবনে আব্বাস বর্নিত, নবী বলেছেন , কাল পাথর যখন বেহেস্ত থেকে পতিত হয় তখন তা দুধের চাইতেও সাদা ছিল। মানুষের পাপ মোচনের ফলে সে কাল হয়ে গেছে।

তিরমিজি, হাদিস -৯৫৯: ওমর বর্নিত , আমি নবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন , কাল পাথর ও রুক ইয়ামানী উভয়কে স্পর্শ করলে মানুষের পাপ মোচন হয়।

উক্ত বিধান মেনে মুহাম্মদ নিজেও যখন কাবা ঘরে যেতেন , প্রথমে সেটাকে কেন্দ্র করে সাত পাক ঘুরতেন , তারপর গিয়ে অতি ভক্তি সহকারে কাল পাথরকে চুম্বন করতেন। কারন অন্য সবার মত তিনিও ছিলেন পাপী। আর সেই পাপ মোচনের জন্যেই তাকে বার বার কাল পাথরকে চুম্বন করতে হতো। মুহাম্মদ যে পাপী ছিলেন , তা জানা যায় কোরানেই -

সুরা আল মুমিন- ৪০: ৫৫: অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।

সুরা আল ফাতহ- ৪৮: ২: যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যত পাপসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।

সুতরাং নিয়মিত ভাবে মুহাম্মদ কাল পাথরকে চুম্বন করে তার পাপ মোচন করতেন। তার অর্থ , মুহাম্মদ উক্ত কাল পাথরকেই তার আল্লাহ হিসাবে কল্পনা করতেন পরোক্ষভাবে। কারন একমাত্র আল্লাহরই ক্ষমতা আছে পাপ মোচনের। এখন কাল পাথরেরও যদি সেই ক্ষমতা থাকে , তাহলে কাল পাথরই যে আল্লাহর প্রতিরূপ , তা অতি সাধারন কান্ডজ্ঞান যার আছে সেই বুঝতে পারে।
মুহাম্মদ তো এবার কাবা ঘরকে কিবলা করে মদিনায় তার দলবল সহ নামাজ পড়া শুরু করলেন, ভাল কথা। কিন্তু প্রশ্ন হলো , তখন কাবা ঘরের মধ্যে কি ছিল ? তখনও তো কাবা ঘরের মধ্যে ৩৬০ টা মুর্তি বহাল তবিয়তে ছিল। মদিনায় যাওয়ার দশ বছর পর মুহাম্মদ মক্কা ও কাবা ঘর দখল করেন, আর মদিনায় যাওয়ার সতের মাস পরে মুহাম্মদ কাবা ঘরকে কিবলা বানন। তার মানে মদিনায় অবস্থানরত মুহাম্মদ ও তার দলবল সাড়ে আট বছর যাবৎ ৩৬০টা মূর্তি ভর্তি কাবা ঘরকে কিবলা করেই নামাজ পড়েছেন। অর্থাৎ সজ্ঞানে তারা সেই মূর্তির কাছেই মাথা নত করে , নামাজ পড়েছেন। মক্কা দখলের আগে , মুহাম্মদ ও তার দলবল প্রায় প্রতি বছর হজ্জের সময় মক্কায় আগমন করতেন , আর তারা তখন সেই মুর্তি ভর্তি কাবাকেই সাতবার প্রদক্ষিন করতেন ও মুর্তি ভর্তি কাবার সামনে মাথা নত করে নামাজ পড়তেন। অর্থাৎ তারা সবাই সেই মূর্তির সামনেই মাথা নত করেন।

কথিত আছে , মুহাম্মদ মক্কা দখলের পর কাবা ঘরের সব মুর্তি ভেঙ্গে গুড়িয়ে বাইরে ফেলে দেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো , তার আগে যে তিনি মুর্তি ভর্তি কাবার সামনে মাথা নত করতেন ও নামাজ পড়তেন , সেটার কি হবে ? যদি মুর্তি ইসলামের কাছে এতই হারাম হয়ে থাকে , তাহলে মুহাম্মদ মক্কা বিজয়ের পর , কাবা থেকে সব মুর্তি বের করে দেয়ার পরেই সেটাকে কিবলা বানাতে পারতেন। তাহলে কিন্তু এই প্রশ্ন উত্থাপিত হতো না। কিন্তু সেটা তিনি তো করেনই নি , বরং অতি সজ্ঞানে , সচেতনভাবেই তিনি মুর্তি ও কাল পাথর ভর্তি কাবাকে কিবলা বানিয়েছেন। তিনি এতটাই সজ্ঞানে ও সচেতন ভাবে এটা করেছেন যে এক পর্যায়ে মুহাম্মদ এ সম্পর্কিত আয়াতও নাজিল করেছেন।

তার মানে মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত মুহাম্মদ একাধারে পাথরপুজারি ও মূর্তি পুজারী ছিলেন , তাই নয় কি ? মক্কা বিজয়ের পর মুর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলেছেন , কিন্তু কাল পাথরকে যথাস্থানে রেখেছেন। মুহাম্মদের দেখান পথে গত ১৪০০ বছর ধরে , লাখ লাখ মোমিন মুসলমান হজ্জের সময় কাবা ঘরে গিয়ে কাল পাথরকে চুমু খেয়ে পাপ মোচনের প্রান পন চেষ্টা করে থাকে। এমন কি তা করতে গিয়ে বেঘোরে কত মানুষের প্রান চলে যায়। কিন্তু সেই পাথরকে চুম্বন করতে হবেই , কারন সেটাই তা আসলে আল্লাহ , তাকে চুম্বন করে পাপ মোচনের সুযোগ কেউ বা হারাতে চায় ?
আপনার মাথার তিন পাউন্ড বা ১.৫ কেজি ওজনের ঘিলু খাটিয়ে একটু ভেবে উত্তর খুঁজতে থাকুন।

তালপাতার সেপাই।👣

Friday, 22 June 2018

আস্তিকের ধর্ম বিশ্বাসে নাস্তিকের শক্তিশালী হয়ে ওঠা।

 বেশকিছু দিন ধরেই একটা বিষয় নিয়ে ভাবছি, যদিও বিষয়টি নতুন কিছু না বিগত একদশক ধরেই দেখে আসছি। বিষয়টি হল অনলাইনে নাস্তিক্যবাদ প্রচার, আস্তিকদের সাথে নাস্তিকদের বাগযুদ্ধ, তর্ক-বিতর্ক । ইদানীং ফেসবুকে বিভিন্ন নাস্তিক্যবাদি গ্রুপে পোস্ট করা, মন্তব্য করা নিয়ে একই বিষয়ের কপচানি দেখতে দেখতে বিতৃষ্ণ হয়ে গেছি। নাস্তিক ও আস্তিক উভয় গ্রুপেই পোস্টকারি নাস্তিক আস্তিক উভয়ই পোস্ট করে তাতে বিতর্ক করতে যোগ দেয় আমাদের বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, ভিন্নধর্মী সব ধরনের মানুষ। আজকে নাস্তিকদের নিয়ে নয় কথা বলবো আস্তিকদের বা বিশ্বাসীদের নিয়েই।
বিশ্বাসীদের মধ্যে যদি শ্রেনী বিভাগ করি তাহলে দেখা যাবে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। একদল হচ্ছে শিক্ষিত শ্রেনীর আরেকটি দল হচ্ছে অশিক্ষিত শ্রেনী।
শিক্ষিত শ্রেনীর মধ্যে স্বশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত।
অশিক্ষিতদের মধ্যে আছে (দুঃক্ষিত আমার তিতকুটে সত্য বলতেই হচ্ছে)গন্ডমূর্খ, এবং রাস্ট্রীয় অর্থায়নে গড়ে ওঠা শিক্ষা ব্যবস্থার ফসল 'মাদ্রাসা শিক্ষিত'। গন্ডমূর্খ কথাটি বলবার কারন হলো আজকাল ছেলেবুড়ো সবারই হাতে একটি আধুনিক মুঠোফোন আছে তার সাথে একটি ফেসবুক আইডিও আছে। এই প্রথমে উহ্য শ্রেনীর লোকেদের ধর্মজ্ঞান বলতে মক্তব্যের হুজুরের কাছে শেখা বুলি পারিবারিক কতক বিধিনিষেধ, বিভিন্ন ইসলামি জলসা, ওয়াজ মাহফিলের বক্তাদের বলা গালগল্প, এবং প্রচন্ড বিদ্বেষমূলক কথাবার্তাই সহায় সম্বল। এরা জানবে না বুঝবে না যাচাই করা তো দূরে থাকে হুট করে এসেই মন্তব্য করবে জবাই করমু! কুপামু!.... আরও বাংলা ভাষার স্ল্যাং বা অশ্রাব্য গালিগালাজ বিনামূল্য দিয়ে যাবে। যা কিনা স্পস্ট আইন লঙ্ঘন। মাদ্রাসা শিক্ষিত দের নিয়ে বিশেষ কিছু বলবার নেই। পাঠকেরা অবগত আছেন। এদের পোস্ট, মন্তব্য ভিন্ন ধাচের। যা শতভাগ সহিহ্ সম্মত! যাক সে কথা।
এবার আসা যাক শিক্ষিত শ্রেনীর বিষয়ে যারাই এই শ্রেনীর আছেন তারা অধিকাংশ একাডেমিক ভাবে শিক্ষিত, স্বল্প শিক্ষিত, এবং কি বড় বড় ডিগ্রীধারী উচ্চশিক্ষিত।
এদের জ্ঞান ঐ সার্টিফিকেটেই আবদ্ধ। ধর্ম সম্পর্কে উদার। এরা যতটা না বাস্তব জীবনমুখী! ততটাই স্বপ্নাবিষ্ট! এদের ধর্মজ্ঞান বলতে ওই পারিবারিকসূত্রে পাওয়া কিছু বিধি-নিষেধ। ছোটবেলায় মক্তবে পড়া আমপারা, সিপারা তেই।ওয়াজ মাহফিলের ধার ধারে না। এর কিয়দংশ আবার ধর্মগ্রন্থ কুরান-হাদিস পড়ে ঝালাপালা করা।
'ধর্ম' মোল্লা,পুরোহিতদের না হয় এটা একটা ব্যবসা, কিন্তু সাধারন যারা আছে তারা কেন এই গাজাখুরি বিশ্বাস করে? সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার সাধারন ধার্মিক বন্ধুবান্ধবের সাথে আমার জীবন যাত্রায় কোনো তফাত নাই। এদের প্রায় সবাই বাস্তববাদী, উচ্চশিক্ষিত জীবনমুখী মানুষ। বিশ্বাস এরা যাই করুক, বছরে কয়েকদিন জুম্মাঘরে যাওয়া ছাড়া আচার–আচরনে এবং অন্য সমস্ত ব্যাপারে চিন্তাভাবনায়ও এদের সাথে আমার কোনো তফাত নাই। চারপাশের এই সাধারন মুসলমানদের ধর্মীয় চিন্তাভাবনা, বানী, আদর্শ ও বিশ্বাসের সাথে তাদের আচার–আচরন এবং জীবনযাত্রার পার্থক্য তুলে ধরার আগ্রহ থেকে এ লেখা।
এই উচ্চ শিক্ষিত মানুষগুলো ব্যবহারিক ভাবে একেবারে গোড়া ধার্মিক ও না আবার কথাতে একেকজন ধর্মগুরুদের মত। তথাকথিত সাধারন ধার্মিক মুসলমানগনও মুখে বলে ধর্মের আদর্শগত রূপের কথা, আর আকরে ধরে ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটাকেই। আদর্শ ভুলে ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটাকে আকরে ধরার ফলেই আজকের এই বিভেদ, হিংসা, মারামারি, মানুষ হত্যা । ধর্মগুলোতে খোদার যে সর্বশক্তিমান, মহানুভব রূপের বর্ণনা দেয়া আছে, যা এই ধার্মিকের দল সকাল বিকাল জিকির করে, তোষামোদ করে, তারা কখনো ভাবে না যে এ কেমন মহানুভব খোদা যে সৎকর্ম, সদাচার, কর্তব্যকর্ম, সমাজ হিতকর কর্মের চেয়ে উপাসনা পদ্বতি, সংস্কার রীতিনীতি আর পরকাল বিষয়ক মতামতে বেশি মূল্য দেয়!!!
মৌলিক বিশ্বজনীন আদর্শগুলাকে এরা ধর্মের লেবেলে মুড়িয়ে এরা যেমন নির্লজ্জ ভাবে প্রচার করে ঠিক তেমনি সামাজিক ভন্ডামির সহিত পালনও করে। উদাহরন??? কুরবানির উদ্দেশ্য নাকি আত্মত্যাগ, এই আত্মত্যাগ হলো ইসলামের আদর্শ। আর এই আত্মত্যাগ এরা করে লোক দেখানো গরু খাওয়ার মত সামাজিক ভন্ডামির মাধ্যমে। রোজা হচ্ছে আত্মসংযম। আর এই আত্মসংযম এরা করে দিনে না খেয়ে, সাথে ভিন্ন ধর্মীদের উপর চাপ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পন্যের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে। আর ভন্ডামি শুরু হয় মাগরিবের পর। সৎকর্ম, সদাচার এই গুলা নিয়া প্রতিযোগিতা হয় না, প্রতিযোগিতা হয় গরু খাওয়া নিয়া। আর খুনোখুনী হয় গরুখোর আর গরু যারা খায় না তাদের মধ্যে। আহা! কি সুন্দর আদর্শ!
আমার আশেপাশের এইসব উচ্চশিক্ষিত মুসলমানের দলের প্রায় সবাই বাস্তববাদী, উচ্চশিক্ষিত জীবনমুখী মানুষ। এরা সবাই গর্বিত মুসলমান। বিশ্বাস এরা যতটুকুই করুক না কেন কথায় পুরা ১০০% বিশ্বাসী। নাকের মিরাকল, চোখের মিরাকল মার্কা সমস্ত ডকুমেন্টারি এদের আয়ত্তে। বিজ্ঞানের সমস্ত ব্যখ্যা যে কোরানে আছে এটা আয়াত সহ ব্যখ্যা করে বু্ঝিয়ে দিতে পারবে। কোরান হাদিস পুরা ঝাড়াঝাড়া। অমুক বিজ্ঞানী, ডাক্তার, কি বলল তা নিয়ে স্বীয় ধর্মকে প্রশ্নের উর্ধে রাখার বিফল প্রয়াস। টেরোরিস্টরা এদের মতে কোরানের ভুল ব্যখ্যাকারী, আবার ৯/১১ সম্পর্কে এদের মতামত হচ্ছে আমেরিকার একটা শিক্ষার দরকার ছিল। আইএসএস, আফগানের তালিবান, বাংলাদেশের হরাকতুল জিহাদ, জেএমবি সব ইসলামের রক্ষক।
আমেরিকার ইরাক আক্রমন হচ্ছে মানবতার বিরুদ্ধে আক্রমন আর ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলযির বাংলা আক্রমন হচ্ছে মানবতার জন্য আক্রমন। এরাই হচ্ছে উচ্চশিক্ষিত মুসলমান।

অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে উচ্চশিক্ষিত মুসলমানদের প্রাথমিক ধারনা হচ্ছে এরা কোরান পড়ে না তাই অবিশ্বাসী। একজন অবিশ্বাসী কোরান এর আয়াত নিয়ে কথা বললে এরা বলবে শানে–নজুল জানে না তাই অবিশ্বাসী। শানে–নজুল আর আয়াত একত্র করে দেখলে এরা বলে এই আয়াত রূপক অর্থে লেখা, এর আসল ব্যখ্যা জানে আলেমের দল। আর যে আলেমের লেখা তাদের ভালো লাগে না তারা হচ্ছে ভুল ব্যখ্যাকারী। আর এই ভুল ব্যখ্যাকারী আলেমের দল যেই ব্যাক্ষা দেওয়া হয় তাদের থেকেই হয় টেরোরিস্ট বা ফিতনা সৃষ্টিকারী।
আবিশ্বাসীদের সম্পর্কে এদের প্রাথমিক ধারনাটা ভুল। মুসলমান থেকে যারা অবিশ্বাসী হয়, কোরান পড়েই এদের অবিশ্বাস শুরু হয়। শানে–নজুল, হাদিস আর আলেমদের লেখায়ও যারা বিশ্বাস যোগ্য কিছু খুজে পায় না তারাই হয় অবিশ্বাসী। এই অবিশ্বাস দৃঢ় হয় যখন তারা বিবর্তনবাদ সম্পর্কে জানে, প্রকৃত ইতিহাস জানে ও জানবার প্রবল আকাঙ্খা রাখে, আল্লাহ তাদের দিলে তালা মেরে রেখেছে এই জন্য না। অবিশ্বাসীরা প্রশ্ন করে, জানতে চায়, বুঝতে চায়। এই জানতে চাওয়া, বুঝতে চাওয়া কাউকে ভুল ব্যখ্যাকারী বানায় না, বানায় সত্যসন্ধানী। আর এই মুক্তমনা সত্যসন্ধানীদের মধ্যে যারা পারিবারিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় কুসংস্কারের উর্ধ্বে উঠতে পারে তারাই হয় অবিশ্বাসী, কোরানের ভুল ব্যখ্যাকারী না। একজন অবিশ্বাসী যতটা যুক্তীবাদী, আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মমর্যাদাসচেতন বলে অন্যায়-অপকর্ম হতে বিরত থাকে। একজন শিক্ষিত বিশ্বাসী ততটাই তার উলটো। তারা আসমানি কিতাবে বিশ্বাস, ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস রেখেও এ হেন অন্যায়-অপরাধ- অপকর্ম নেই যা করে না। এর মাঝে যৎসামান্যই লোকনিন্দা, রোষের, এমন কি সরকারী আইনি শাস্তির ভয়ে বিরত থাকে। তাহলে ধর্মশাস্ত্রের ভূমিকা কতটুকু কার্যকর!

যখন উচ্চশিক্ষিত মুসলমানরা বলে যে তারা নিয়মিত কোরান পড়ে, অবিশ্বাসীরা বরং অবাক হয়,উচ্চশিক্ষিত মুসলমানদের প্রশ্ন করার সুযোগ পায়, জানতে চাওয়ার এবং বুঝতে চাওয়ার অক্ষমতা দেখে, অবাক হয় তাদের শিক্ষার মান দেখে; পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংকীর্নতার জালে জড়িয়ে পরা দেখে। এই মুসলমানের দল যখন অবিশ্বাসী আর কট্টর বিশ্বাসীদের বলে ভুল ব্যখ্যাকারী, তখন এদের ঠিক–ব্যখ্যা (!!!) সম্পর্কে জানার আগ্রহ একটুতো হয়ই।

এদের ঠিক ব্যখ্যা হচ্ছে কোরান একটি পূর্নাংগ জীবনাদর্শন একমাত্র জীবন বিধান। এই জীবনে যা জানার আছে তার সবই কোরানে আছে। দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য যা জানা দরকার তার সবই আছে কোরানে আর হাদিসে। জ্ঞান বিজ্ঞানের চাবিকাঠি এই কোরান। যেহেতু কোরান আল্লাহর বানী এবং হাদিস নবীর বানী, তাই এখানে কোন ভুল থাকতে পারে না। এই ঠিক ব্যখ্যাকারীর দল হচ্ছে স্বঘোষিত বিশ্বাসীর দল।
এই ঠিক ব্যখ্যাকারী উচ্চশিক্ষিত,স্বঘোষিত বিশ্বাসী মুসলমানরা বিশ্বাস করে ঠিকই, কিন্তু কতটুকু? বিশ্বাস মাপার কোন দাড়িপাল্লা নাই, তাই বিশ্বাস মাপতে হয় কর্মকান্ড দেখে। এদের অধিকাংশের কর্মকান্ড দেখে বুঝার কোন উপায় নাই যে এরা বিশ্বাসী। বছরে কয়েকবার জুম্মা পরা আর কয়েকদিন না খেয়ে রোজা থাকা ছাড়া জীবনযাত্রায় এদের সাথে অবিশ্বাসীদের কোন তফাত নাই। এক ওয়াক্ত নামাজ না পরার শাস্তি নাকি ১ লক্ষ ৮৪ হাজার বছর দোযখে পোড়ানো। একটা মানুষ যে বলে সে মনে প্রানে ইসলামে বিশ্বাস করে, সে কিভাবে নামায পরে না। দোযখের শাস্তির বর্ণনা এবং কারন জানার পরও এরা ধর্ম পুরাপুরি পালন করে না। অথচ এই একই লোক আবার দুনিয়াদারীর কোন ব্যপারে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয় না। ধর্ম এরা মনমত মানে, কিছু মানে, কিছু মানে না। অথচ ইসলাম ধর্মে এমন ইচ্ছা মত মানার কোন সুযোগের কথা বলা নাই। সব জানার পরেও, ধর্মের কোন কিছু ঠিক ভাবে পালন না করলেও, এরা মুসলমান। এই ঠিক ব্যখ্যাকারী বিশ্বাসীর দলই আবার আবিশ্বাসীদের নৈতিকতা এবং আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে। এরা মনে করে সুপারমলে এরা চুরি করে না খোদায় ভয়ে (!!!), মলকূপ এর ভয়ে না।
বিশ্বাসী মুসলমানদের এই কোরান হাদিস না মানার কোন অজুহাত নাই। এরা বলতেও পারেনা যে কোরান মেনে জীবন যাপন সম্ভব না, কারন এইটা বলা আবার ধর্মে নিষেধ আছে। এরা তাই বলে “চেষ্টা করি”। এই চেষ্টা করি বলাটাও তাদের বিশ্বাস করি বলার মত আরেকটা মিথ্যা। এরা দুনিয়াদারীর কোন সামান্য জিনিসের জন্য যতটুকু চেষ্টা করে, তার কানাকড়িও করে না ধর্মের জন্য। এরা হচ্ছে সেই ইমামের মত যে সারাদিন মসজিদে বসে জিকির করে আল্লাহ রাজ্জাক আল্লাহ রাজ্জাক (আল্লাহ রিজিকদাতা), আর মহল্লার মানুষ যখন বলে হুযুর সামনের মাসে বেতন দিতে পারবনা তখন এই মসজিদ বাদ দিয়া অন্য মসজিদে চলে যায়। সারাদিন যে জিকির করল আল্লাহ রিজিকদাতা, সেই আল্লাহ যে রিজিক দিতে পারে এই বিশ্বাস নাই, বিশ্বাস আছে সামনের মাসে এই মহল্লার মানুষ যে বলছে বেতন দিতে পারব না তার উপর, বিশ্বাস আছে নতুন মসজিদের মুসুল্লিদের উপর।
চারপাশের উচ্চশিক্ষিত বিশ্বাসী মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস আর ধর্ম পালনের চেষ্টারও একই অবস্থা। এরা জানে এদের বিশ্বাসে ঘাপলা আছে, বিশ্বাস এদের যায় যায় অবস্থা, তাই এদের ধর্মানুভুতি খুব বেশি। তাইতো ধর্মের কথায় এর ঝাপিয়ে পরে, সহনশীলতার ধার ধারেনা। কথায় কথায় এরা মনে করিয়ে দেয় ইসলামের ইতিহাস, নবীর উপর ধর্মের কারনে অত্যাচার, আর নবীর সব মাফ করে দেয়া।

এই মুখে খোদায় বিশ্বাসী, এবং কাজ কর্মে খোদার আদেশের ধার ধারিনা মার্কা নিজের সাথে প্রতারনা করা, ভন্ড, নাম– স্বর্বস্ব মুসলমানরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ। এরা টেরোরিস্ট না, কারন এরা কোরান হাদিস পুরাপুরি মানে না, এবং আত্মঘাতী হওয়ার মত অসৎ সাহস এদের নাই। এই সংখ্যা গরিষ্ঠ ভন্ড বিশ্বাসীদের আপত দৃষ্টিতে নিরীহ গোবেচারা মনে হলেও এরা তা না। এরাই ধর্মীয় সমস্ত অপকর্মের সামনের সাড়িতে থাকে। অন্ধবিশ্বাসে ধর্মান্ধ এরা নিজের ও তাদের খোদার সাথে বছরের পর বছর প্রতারনার ফলে এদের ভিতর জমতে থাকে ক্ষোভ। এই ক্ষোভ নিয়া ঘাপটি মেরে থাকে এরা, তাই ধর্মীয় সংঘাতে এরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ। আজকে দেশে ধর্মের নামে যে উন্মাদনা, একের পর এক ব্লগারকে টার্গেট করে হত্যা করায় এরা পেয়েছে পৈশাচিক আনন্দ। যা বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত টাইমলাইনে, বিভিন্ন গ্রুপে পোস্টের মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে। এই সংখ্যা গরিষ্ঠরাই তার উৎসাহ দাতা। এরা টেরোরিস্টদের কর্মকান্ডে পুলকিত হয়, লজ্জায় কাঠমোল্লাদের সাথে মিছিলে যায় না। কিন্তু এরাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাতিয়ার। মৌলবাদের মদতদাতা। এদের চিনে রাখুন, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
তাল পাতার সেপাই👣
(মূল ভাবনা আব্দুলাহ আল মামুন ভাই)

Sunday, 10 June 2018

ধর্ম

মুহম্মদের সফলতার গোপন কারনসমূহ!

মুহাম্মদের সফলতার গোপন কারন
অনুবাদকঃ তালপাতার সেপাই।
মূল The Secret of Muhammad success
Writer: Ali Sina.

সাধারনত সমাজে যেকোন রীতির সীমিত প্রভাব বিদ্যমান । সুতরাং, কিভাবে ইসলাম সফলভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হয়ে উঠতে পেরেছে ? কিভাবে অনেক মানুষ, তাদের মধ্যে, অগণিত বুদ্ধিমান মানুষ, সম্পূর্ণভাবে এর মধ্যে পরে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই মিথ্যাবাদীতার শক্তি পরীক্ষা করতে হবে। মিথ্যা সম্পর্কে একজন মিথ্যুকের চেয়ে আর কে বেশী জানে? মিথ্যা এবং মহান প্রতারণার এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিল 'জোসেফ গিববেল', হিটলারের প্রচার মন্ত্রী। তিনি একবার বলেছিলেন: "যদি আপনি একটি বড় মিথ্যা বলে থাকেন, যা প্রায়শই যথেষ্ট, তা সময়ের প্রেক্ষাপটে সত্য হয়ে যায়।" একটি মিথ্যা একটি প্রধান বিশ্ব ধর্ম হতে পারে কিভাবে? আলোচনার মধ্যে যাওয়ার আগে, উত্তর পেতে আগে এই বিষয়টি ঘিরে যে কিছু লজিকাল ভ্রান্তি রয়েছে, তা বিবেচনা করা যাক।

আধুনিকতার প্রতিবাদ: এই ভ্রান্তিটি দাবি করে যে, এটি দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকলে, একটি বিশ্বাস সত্য হওয়া উচিত, কারণ "এটি যেভাবেই হোক না কেন।" এই ভুলত্রুটি মুসলিম এপোলজিস্টদের এর একটি প্রিয় যুক্তি। আরবী ভাষায় তাকরির বা তাখর নামে পরিচিত।  ভ্রান্ত ধারনা বলে যে ইসলাম 1400 বছরের ধরে স্থায়ী হয়েছে এবং তাই এটি সত্য হতে হবে!
হাজার হাজার বছর ধরে এমন অনেক থিসিস রয়েছে যা অবশেষে ভ্রান্ত বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক ধরনের তত্ত্ব ছিল ভূগর্ভস্থতা। এর মাঝে সর্বাধিক আলোচিত তত্ত্ব ছিল গ্যালিলিওর বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে পৃথিবীর অবস্থান বিষয়ক যদিও অধিকাংশ লোক এ মতবাদে বিশ্বাস করতেন না। এ বিশ্বাস টি মানব জাতির
হিসাবের মতই পুরাতন ছিল। ধারনা করা হতো সূর্য, চাঁদ এবং অন্যান্য মহাজাগতিক গ্রহ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। অনেকেই এ মতবাদটি কে আপত্তি করেছিল। এমনকি দীর্ঘস্থায়ী ট্র্যাক রেকর্ড এবং প্রাচীনত্ব সত্ত্বেও, ভূগোলবাদী তত্ত্ব এখন মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

আর্গুমেন্টাম সংখ্যা: আরেকটি যৌক্তিক ভ্রান্তি যা মুসলমানরা জড়িয়ে ধরে থাকে। মুসলমানরা এই বলে থাকে যে, মানবতার একটি মহান অংশ ইসলামে বিশ্বাস করে সেহেতু তা সত্য হতে হবে। তারা একথা তুলে তর্ক জুড়ে দেয় যে "এত লোক কিভাবে ভুল হতে পারে?"

আর্গুমেন্ট সংখ্যাটি আরো দাবি করে যে, এটা সত্য বলেই লোকেরা একে জড়িয়ে থেকে একে সমর্থন করে, বিশ্বাস করে থাকে।
 ঠিক যেমন কিছু সত্য মিথ্যা হয় না যদি কেউ এতে বিশ্বাস না করে।
এমন কিছু যা সত্য নয় তা সত্য না হয়ে গেলে অনেকে বিশ্বাস করে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐক্যমত্যের উপর সত্যকে দমন করা যায় না। তথ্য বিশ্বাসের স্বাধীনতার বিদ্যমান।আমরা একটি মতামত জরিপ চালানোর মাধ্যমে সত্য সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। যদি একটি জরিপ করা হয় পৃথিবী সমতল কি না এ নিয়ে বহু বিশ্বাসী আছেন তারা একথা বিশ্বাস করেন যে পৃথিবী সমতল! কমলালেবুর মতো চ্যাপ্টা নয়। পৃথিবী কখনও সমতল ছিল না, এমনকি সবাই যখন বিশ্বাস করেছিল।

Thursday, 17 May 2018

বিষয় ধর্ম


খোশ আমদেদ মাহে রমজান। 

মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য।
পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা। মাহে রমজান উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও তাঁর প্রতিশ্রুত বেহেশত লাভের সওগাত। ‘রামাদান’ শব্দটি আরবি ‘রামদ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন, প্রজ্বলন, জ্বালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমজান মাসে সিয়াম সাধনা তথা রোজাব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা-বাসনা পরিহার করে আত্মসংযম ও কৃচ্ছ্রপূর্ণ জীবন যাপন করে এবং ষড়রিপু
কে দমন করে! মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দা হওয়ার সামর্থ্য অর্জন করে। মাহে রমজান মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় অহংকার, কুপ্রবৃত্তি, নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এই মহিমান্বিত মাসের নাম রমজান। অসাধারণ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাহে রমজানে সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের ঈমানি চেতনা সুদৃঢ় হয়, তাকওয়া বা আল্লাহভীতির নিদর্শন প্রকাশ পায় এবং অত্যন্ত গভীরভাবে ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি সঞ্চারিত হয়।
দ্বিতীয় হিজরীতে মদীনায় থাকা অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাজিল করার মাধ্যমে রোযাকে ফরয ‎করেন মুসলমানদের উপর। মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে সূরায়ে বাক্বারার ১৮৩ নং আয়াতে ‎ইরশাদ করেন-‎‏ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ‎ অর্থাৎ হে ‎মুমিনরা! আমি তোমাদের উপর রোযাকে ফরয করেছি যেমন ফরয করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের উপর যেন ‎তোমরা পরহেযগার হতে পার।(সূরা বাক্বারা-১৮৩)
ا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه ‏
অনুবাদ-হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন-যে ব্যাক্তি ঈমানের সাথে ও ‎পূণ্যের আশায় রামাযানের রোযা রাখে আর ঈমানের সাথে পূণ্যের আশায় শুয়ার পূর্বে নফল(তারাবীহ) ‎পড়ে তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আর ঈমানের সাথে পূণ্যের আশায় শবে কদরে নফল ‎পড়ে তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (তিরমিজী শরীফ-রামাযান অধ্যায়গোনাহগার বান্দাদের গোনাহ মাফের ব্যাপকতার জন্য এ মাস এক বিশাল সুযোগের মাস। রামাযানের ‎শুরু থেকেই গোনাহ মাফের যে অফার শুরু হয় তা থাকে ঈদের চাঁদ উঠা পর্যন্ত। একবার কোন ইবাদাত ‎করলে অন্য মাসে ৭০ বার সে ইবাদাত করার সোয়াব পাবার নিশ্চয়তা। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহর ‎অবারিত মাগফিরাত আর বরকতপূর্ণ এ মাস। এ মাসে যেন আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা আর বরকতের ঝাঁপি ‎খুলে দিয়েছেন। ‎
من تقرب فيه بخصلة من الخير كان كمن أدى فريضة فيما سواه و من أدى فيه فريضة كان كمن أدى سبعين فريضة فيما سواه ‏‎ ‎
অনুবাদ-সালমান রাঃ থেকে বর্ণিত একদা নবীজী সাঃ খুতবায় বলেন-যে ব্যক্তি এ মাসে (নফল) নেক ‎আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হবে যে রামাযান ছাড়া অন্য সময় ‎একটি ফরয আদায় করল, আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করবে সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ‎ফরয আদায় করল। (সহীহ ইবনে খুজাইমা-৩/১৯১)
...

বস্তুত, মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মোবারক, রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মহান মাসে পবিত্র কোরআন মজিদ নাজিল হয়েছে। রমজান মাসের সম্মানজনক মর্যাদা সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজান মাস আগত হয় তখন আকাশ বা বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা বন্ধ করা হয় না, আর দোজখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা খোলা হয় না, আর শয়তানকে জিঞ্জিরে বন্দী করা হয়।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজা)

...

শাবান মাসকে রমজান মাসের প্রস্তুতিমূলক মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাবান মাসের সমাপনান্তে মাহে রমজানের এক ফালি রুপালি চাঁদ পশ্চিম আকাশে উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন একজন মুমিন মুসলমান মনে ইস্পাতকঠিন ঈমান ও ব্যাপক উৎসাহ-আগ্রহভরে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্যে নিয়ত করে ফেলেন ও রোজা আদায়ে মশগুল হয়ে যান, তখনই তিনি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের চাদর দ্বারা আবৃত () হয়ে পড়েন। ফলে ইহজগতের শান্তি ও পারলৌকিক কল্যাণ ও মুক্তির সনদ তাঁর জন্য ঘোষণা করা হয়। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি ভালো কাজের সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে দেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: কিন্তু রোজার ব্যাপারে এর ব্যতিক্রম হবে। কেননা বান্দা আমার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য রোজা রেখেছে এবং আমি নিজেই এর প্রতিফল দান করব। সে তো আমার জন্যই কামনা-বাসনা ও খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।’ (মুসলিম)

মাহে রমজান এমন এক বরকতময় মাস, যার আগমনে পুলকিত হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কিরামদের মোবারকবাদ পেশ করতেন এবং এ মর্মে সুসংবাদ প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সামনে রমজানের পবিত্র মাস এসেছে, যে মাসে আল্লাহ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন।’ (মুসলিম) অন্য এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মত যদি মাহে রমজানের গুরুত্ব বুঝত, তাহলে সারা বছর রমজান কামনা করত।’ () সুতরাং এ শ্রেষ্ঠতম মাসে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যপানে ধাবিত হওয়ার প্রচেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্যকর্তব্য।

Friday, 20 April 2018

তুমি উটমূত্রপায়ী জীব হলে, আমি গোমূত্রপায়ী জীব হব না কেনো?

সম্প্রতি একটি খবর অনলাইনে বেশ আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে।
 খবর টি হলো ভারতীয় এক মূখ্যমন্ত্রী এক সভা সেমিনারে বলেছেন প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে নাকি আন্তঃর্জাল সংযোগ ছিল এবং মহাভারতের "সঞ্জয়" মহামতি বেদব্যাস এর দান করা দিব্য দৃষ্টির সাহায্য রাজ্য থেকে কয়েক মাইল দূরের কুরক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে পেতেন। তার চাক্ষুষ বর্ণনা রাজমহলে রাজা ধৃতরাষ্ট্রের ও সভায় বর্ণনা করতেন!
এখানে সামান্য একটা কথায় হয়তো কারও কিচ্ছু যায় আসে না। পাতে না নেওয়ার মতো বটে। তবে ওই যে যত সমস্যা নাস্তিকদের।
আরে ভাই যেখানে ইসলামি ধর্মপ্রচারকগণ নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে বলে থাকে বিজ্ঞান এই তো সেদিন মাত্র এই বিশয় জানতে পারলো, আবিষ্কার করলো। মহান আল্লাহ্‌ পাক কুরান মাজিদে চৌদ্দশত বছর পূর্বে একথা বলে দিয়েছেন! এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার বিভিন্ন ব্লগে বিশ্বাসী অবিশ্বাসীরা বিস্তর তর্ক বিতর্ক করে চলছে। অনীশ্বরবাদীরা এবং হিন্দুরা মুসলিমদের বলে আল কুরান হলো তৌরাত, যবুর, ইন্জিল থেকে বিস্তর চোথা মারা(কপি করা)। মুসলিমরা হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞানের ব খুজে পায় না, তেমনি হিন্দুরা মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞানের ব খুজে পায় না। অবিশ্বাসী নাস্তিকরা বলে কোন ধর্মগ্রন্থেই আদৌ কোন বিজ্ঞান নেই বিজ্ঞান থাকা অসম্ভব।
পৃথিবী সমতল কি গোলাকৃতি তা নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আলোচনার বিস্তর জায়গা আছে। ইসলামিক সোর্স কুরআন অনুসারে ডা. জাকির নায়েক ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে প্রমান করতে চান পৃথিবী উটের ডিমের আকৃতি। তার অসংখ্য ভক্ত অনুসারীগন তা ধ্রুব সত্য বলে মেনে থাকে।
একজন ধর্মপ্রচারকের কাজ ধর্মকে সম্প্রসারণ করা।
আর একজন প্রধানমন্ত্রী কাজ হলো সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।
একটি বহুজাতির ও ধর্ম ও বর্ণের রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হয়ে শুধু স্বীয় ধর্ম প্রচারে দায়িত্ব নিজে নেন তাতে তার আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হবেই। একইসাথে সাধারণ সনাতনী হিন্দুরা তা অতিসহজে মানতে বাধ্য। কেননা তা ধর্মগ্রন্থে আছে এবং কি প্রধানমন্ত্রী নিজে একে সমর্থন করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে মুম্বাই শহরের একটি হাসপাতালে প্রচুর বিদ্বান ডাক্তার, জ্ঞানীব্যক্তিদের মাঝে ভাষণ দেন এইভাবে
"We can Feel Proud of what our country achieved medical science at one point of time. We all read about the Karna in the Mahabharata if we think a little more, we realise that the Mahabharata say that Karna was not born in his mother womb. This means that genetic science was present at that time. This is why Karna could be born outsite his mother womb."
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন
"We worship lord Ganesh. There must have been some plastic surgeron at the time who got an elephants head on the body of a human being and began the plastic surgery. (গার্ডিয়ান ২৮ অক্টোবর ২০১৪) খাইসেরে!
তাহলে বুঝুন এবার, সাধারন ধর্মপ্রান হিন্দু কি বলবে?
সনাতনী হিন্দুরা বলে থাকে সবকিছুই নাকি ব্যাদে আছে! বেদ, উপনিষদ, পুরান, উপপুরান, মনুসংহিতা, শতপথব্রাহ্মন, শ্রীমদ্ভগবত গীতা, চন্ডী, রামায়ন, মহাভারত হলো হিন্দু ধর্মলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ সমূহ। এর মধ্যে বেদ প্রধান। কি নাই এতে একটু খুজে দেখি!
★অনেক মুনিঋষি, রাজা, রাজপুত্র, রাজকন্যা জন্ম নিয়েছেন এরা ছিলেন অযোনিজ। বা কোন প্রকার মিলন ছারাই, যেমনঃ মনু, দ্রোণ, পুলস্ত্য, সীতা, খাইসে! এ তো আইভিএম (IVM) প্রযুক্তির সূত্র,
★মহারানী গান্ধারীর শতপুত্র জন্মদান হয়তো ক্লোনিং এর সূত্র! (মহাভারত)
★পুস্পকরথ হলো আধুনিক বিমান এর আবিস্কারের সূত্র।(রামায়ণ) এছারাও
 ★রামায়ণ মহাভারতে যে ধরনের ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে আসলে তা হচ্ছে বিভিন্ন পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহার!
★শ্রীকৃষ্ণ মহাভারতে অর্জুনকে যে বিশ্বরূপ দেখিয়েছে তা ছিল বিগ ব্যাং (!) এইটা না বুঝার কি অইলো!
আরও অনেক বিঞ্জানে ভরা হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে আছে, যা কয়েকশো পৃষ্ঠা লেখেও শেষ করা সম্ভব না।

পরিশেষে একটি কথাই বলা যায় যারাই ধর্মগ্রন্থগুলোতে বিজ্ঞান খুজে তারা "কেহ কাহারে নাহি জিনে সমানে সমান" যতদিন ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞান খোঁজা বন্ধ না হবে ততোকাল মানুষ অন্ধবিশ্বাসী হয়েই থাকবে।

Monday, 9 April 2018

কোটা পদ্ধতি ও একজন বুদ্ধিজীবীর পরামর্শ

ছোটবেলায় মা, নানী-দাদীর মুখে শুনতাম "ভোঁদরে মাছ মারে, আর খাটাসে তিন তিন ভাগ করে"। তখন এই কথার মানেটা না বুঝলেও  সম্প্রতি একজন বুদ্ধিজীবীর কথার প্রেক্ষিতে যুতসই লাগলো। লিঙ্কhttps://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2373574056001794&id=100000476686357 কোটা পদ্ধতির সংস্কার হোক আমিও চাই। তবে যৌক্তকতা অনুযায়ী এবং শান্তিপূর্ণভাবে। মেধাবীদের মূল্যায়ন এবং অবৈধ নিয়োগ বানিজ্যের দৌরাত্ম বন্ধ করা সময়ের দাবি। আশা করি মাননীয় সরকারপ্রধান সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে কোটা পদ্ধতির সংস্কার করবেন। আর উপরে বর্ননাকৃত বুদ্ধিজীবীর ব্যাপারে যদি কিছু বলি তাহলো সাংবিধানিকভাবে একজন স্বাধীন সার্বভৌম রাস্ট্রের নাগরিক হিসাবে মত প্রকাশের অধিকার সকলের আছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে কটাক্ষ বা হেয় করার পক্ষে নই। উনার যা ভাল মনে হয় তাই বলতে পারেন। সমস্যাটা হলো উনার অনুসারীরা তার কথায় অনুপ্রানিত হয়ে ফুলে ফেঁপে উঠতে পারেন। আমার সাধারন দৃষ্টিতে দেখি স্তাবক, চাটুলতা বা খাদেমগিরি করার প্রয়োজন হয় বাবা আর দাদা'দের। বাবা বলতে পীড়, ফকির, দরবেশ, সাধুবাবাদের আর দাদা বলতে উঠতি নেতা, পাতি নেতা অথবা প্রতিষ্ঠিত কোন বড়সর রাঘোব বোয়ালদের। এসব বাবা দাদাদের মতোন প্রতিষ্ঠিত একজন বুদ্ধিজীবী হতে গেলে স্তাবকের দরকার পরে। দুঃখিত আমি কোনভাবেই কাউকে হেয় করতে ওই গ্রাম্য প্রবাদবাক্যটি বলি নি। উপযুক্ত একটি সময়ে মনে পরে গেলো।

Saturday, 17 February 2018

আমার জীবন দর্শন


 আমার কিছু কথা
একজন সাধারন মানুষ। নিজেকে একজন তুচ্ছ ও নগন্য মানুষ ভাবি। প্রতিক্ষণে নিজেকে ভেঙে আবার গড়ার চেষ্টা করি।  দেখুন।  
আমার Facebook profile, page এ একটু ঘুরে আসতে পারে।

পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম

পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম। ইসলাম কি পৌত্তলিকতা মুক্ত? সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোস্ট কারো ধর্মমত কে হেয় করতে বা ধর্মানুভুতিতে আঘাত ...