তুমি উটমূত্রপায়ী জীব হলে, আমি গোমূত্রপায়ী জীব হব না কেনো?
সম্প্রতি একটি খবর অনলাইনে বেশ আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে।খবর টি হলো ভারতীয় এক মূখ্যমন্ত্রী এক সভা সেমিনারে বলেছেন প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে নাকি আন্তঃর্জাল সংযোগ ছিল এবং মহাভারতের "সঞ্জয়" মহামতি বেদব্যাস এর দান করা দিব্য দৃষ্টির সাহায্য রাজ্য থেকে কয়েক মাইল দূরের কুরক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে পেতেন। তার চাক্ষুষ বর্ণনা রাজমহলে রাজা ধৃতরাষ্ট্রের ও সভায় বর্ণনা করতেন!
এখানে সামান্য একটা কথায় হয়তো কারও কিচ্ছু যায় আসে না। পাতে না নেওয়ার মতো বটে। তবে ওই যে যত সমস্যা নাস্তিকদের।
আরে ভাই যেখানে ইসলামি ধর্মপ্রচারকগণ নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে বলে থাকে বিজ্ঞান এই তো সেদিন মাত্র এই বিশয় জানতে পারলো, আবিষ্কার করলো। মহান আল্লাহ্ পাক কুরান মাজিদে চৌদ্দশত বছর পূর্বে একথা বলে দিয়েছেন! এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার বিভিন্ন ব্লগে বিশ্বাসী অবিশ্বাসীরা বিস্তর তর্ক বিতর্ক করে চলছে। অনীশ্বরবাদীরা এবং হিন্দুরা মুসলিমদের বলে আল কুরান হলো তৌরাত, যবুর, ইন্জিল থেকে বিস্তর চোথা মারা(কপি করা)। মুসলিমরা হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞানের ব খুজে পায় না, তেমনি হিন্দুরা মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞানের ব খুজে পায় না। অবিশ্বাসী নাস্তিকরা বলে কোন ধর্মগ্রন্থেই আদৌ কোন বিজ্ঞান নেই বিজ্ঞান থাকা অসম্ভব।
পৃথিবী সমতল কি গোলাকৃতি তা নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আলোচনার বিস্তর জায়গা আছে। ইসলামিক সোর্স কুরআন অনুসারে ডা. জাকির নায়েক ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে প্রমান করতে চান পৃথিবী উটের ডিমের আকৃতি। তার অসংখ্য ভক্ত অনুসারীগন তা ধ্রুব সত্য বলে মেনে থাকে।
একজন ধর্মপ্রচারকের কাজ ধর্মকে সম্প্রসারণ করা।
আর একজন প্রধানমন্ত্রী কাজ হলো সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।
একটি বহুজাতির ও ধর্ম ও বর্ণের রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হয়ে শুধু স্বীয় ধর্ম প্রচারে দায়িত্ব নিজে নেন তাতে তার আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হবেই। একইসাথে সাধারণ সনাতনী হিন্দুরা তা অতিসহজে মানতে বাধ্য। কেননা তা ধর্মগ্রন্থে আছে এবং কি প্রধানমন্ত্রী নিজে একে সমর্থন করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে মুম্বাই শহরের একটি হাসপাতালে প্রচুর বিদ্বান ডাক্তার, জ্ঞানীব্যক্তিদের মাঝে ভাষণ দেন এইভাবে
"We can Feel Proud of what our country achieved medical science at one point of time. We all read about the Karna in the Mahabharata if we think a little more, we realise that the Mahabharata say that Karna was not born in his mother womb. This means that genetic science was present at that time. This is why Karna could be born outsite his mother womb."
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন
"We worship lord Ganesh. There must have been some plastic surgeron at the time who got an elephants head on the body of a human being and began the plastic surgery. (গার্ডিয়ান ২৮ অক্টোবর ২০১৪) খাইসেরে!
তাহলে বুঝুন এবার, সাধারন ধর্মপ্রান হিন্দু কি বলবে?
সনাতনী হিন্দুরা বলে থাকে সবকিছুই নাকি ব্যাদে আছে! বেদ, উপনিষদ, পুরান, উপপুরান, মনুসংহিতা, শতপথব্রাহ্মন, শ্রীমদ্ভগবত গীতা, চন্ডী, রামায়ন, মহাভারত হলো হিন্দু ধর্মলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ সমূহ। এর মধ্যে বেদ প্রধান। কি নাই এতে একটু খুজে দেখি!
★অনেক মুনিঋষি, রাজা, রাজপুত্র, রাজকন্যা জন্ম নিয়েছেন এরা ছিলেন অযোনিজ। বা কোন প্রকার মিলন ছারাই, যেমনঃ মনু, দ্রোণ, পুলস্ত্য, সীতা, খাইসে! এ তো আইভিএম (IVM) প্রযুক্তির সূত্র,
★মহারানী গান্ধারীর শতপুত্র জন্মদান হয়তো ক্লোনিং এর সূত্র! (মহাভারত)
★পুস্পকরথ হলো আধুনিক বিমান এর আবিস্কারের সূত্র।(রামায়ণ) এছারাও
★রামায়ণ মহাভারতে যে ধরনের ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে আসলে তা হচ্ছে বিভিন্ন পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহার!
★শ্রীকৃষ্ণ মহাভারতে অর্জুনকে যে বিশ্বরূপ দেখিয়েছে তা ছিল বিগ ব্যাং (!) এইটা না বুঝার কি অইলো!
আরও অনেক বিঞ্জানে ভরা হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে আছে, যা কয়েকশো পৃষ্ঠা লেখেও শেষ করা সম্ভব না।
পরিশেষে একটি কথাই বলা যায় যারাই ধর্মগ্রন্থগুলোতে বিজ্ঞান খুজে তারা "কেহ কাহারে নাহি জিনে সমানে সমান" যতদিন ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞান খোঁজা বন্ধ না হবে ততোকাল মানুষ অন্ধবিশ্বাসী হয়েই থাকবে।