বেশকিছু দিন ধরেই একটা বিষয় নিয়ে ভাবছি, যদিও বিষয়টি নতুন কিছু না বিগত একদশক ধরেই দেখে আসছি। বিষয়টি হল অনলাইনে নাস্তিক্যবাদ প্রচার, আস্তিকদের সাথে নাস্তিকদের বাগযুদ্ধ, তর্ক-বিতর্ক । ইদানীং ফেসবুকে বিভিন্ন নাস্তিক্যবাদি গ্রুপে পোস্ট করা, মন্তব্য করা নিয়ে একই বিষয়ের কপচানি দেখতে দেখতে বিতৃষ্ণ হয়ে গেছি। নাস্তিক ও আস্তিক উভয় গ্রুপেই পোস্টকারি নাস্তিক আস্তিক উভয়ই পোস্ট করে তাতে বিতর্ক করতে যোগ দেয় আমাদের বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, ভিন্নধর্মী সব ধরনের মানুষ। আজকে নাস্তিকদের নিয়ে নয় কথা বলবো আস্তিকদের বা বিশ্বাসীদের নিয়েই।
বিশ্বাসীদের মধ্যে যদি শ্রেনী বিভাগ করি তাহলে দেখা যাবে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। একদল হচ্ছে শিক্ষিত শ্রেনীর আরেকটি দল হচ্ছে অশিক্ষিত শ্রেনী।
শিক্ষিত শ্রেনীর মধ্যে স্বশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত।
অশিক্ষিতদের মধ্যে আছে (দুঃক্ষিত আমার তিতকুটে সত্য বলতেই হচ্ছে)গন্ডমূর্খ, এবং রাস্ট্রীয় অর্থায়নে গড়ে ওঠা শিক্ষা ব্যবস্থার ফসল 'মাদ্রাসা শিক্ষিত'। গন্ডমূর্খ কথাটি বলবার কারন হলো আজকাল ছেলেবুড়ো সবারই হাতে একটি আধুনিক মুঠোফোন আছে তার সাথে একটি ফেসবুক আইডিও আছে। এই প্রথমে উহ্য শ্রেনীর লোকেদের ধর্মজ্ঞান বলতে মক্তব্যের হুজুরের কাছে শেখা বুলি পারিবারিক কতক বিধিনিষেধ, বিভিন্ন ইসলামি জলসা, ওয়াজ মাহফিলের বক্তাদের বলা গালগল্প, এবং প্রচন্ড বিদ্বেষমূলক কথাবার্তাই সহায় সম্বল। এরা জানবে না বুঝবে না যাচাই করা তো দূরে থাকে হুট করে এসেই মন্তব্য করবে জবাই করমু! কুপামু!.... আরও বাংলা ভাষার স্ল্যাং বা অশ্রাব্য গালিগালাজ বিনামূল্য দিয়ে যাবে। যা কিনা স্পস্ট আইন লঙ্ঘন। মাদ্রাসা শিক্ষিত দের নিয়ে বিশেষ কিছু বলবার নেই। পাঠকেরা অবগত আছেন। এদের পোস্ট, মন্তব্য ভিন্ন ধাচের। যা শতভাগ সহিহ্ সম্মত! যাক সে কথা।
এবার আসা যাক শিক্ষিত শ্রেনীর বিষয়ে যারাই এই শ্রেনীর আছেন তারা অধিকাংশ একাডেমিক ভাবে শিক্ষিত, স্বল্প শিক্ষিত, এবং কি বড় বড় ডিগ্রীধারী উচ্চশিক্ষিত।
এদের জ্ঞান ঐ সার্টিফিকেটেই আবদ্ধ। ধর্ম সম্পর্কে উদার। এরা যতটা না বাস্তব জীবনমুখী! ততটাই স্বপ্নাবিষ্ট! এদের ধর্মজ্ঞান বলতে ওই পারিবারিকসূত্রে পাওয়া কিছু বিধি-নিষেধ। ছোটবেলায় মক্তবে পড়া আমপারা, সিপারা তেই।ওয়াজ মাহফিলের ধার ধারে না। এর কিয়দংশ আবার ধর্মগ্রন্থ কুরান-হাদিস পড়ে ঝালাপালা করা।
'ধর্ম' মোল্লা,পুরোহিতদের না হয় এটা একটা ব্যবসা, কিন্তু সাধারন যারা আছে তারা কেন এই গাজাখুরি বিশ্বাস করে? সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার সাধারন ধার্মিক বন্ধুবান্ধবের সাথে আমার জীবন যাত্রায় কোনো তফাত নাই। এদের প্রায় সবাই বাস্তববাদী, উচ্চশিক্ষিত জীবনমুখী মানুষ। বিশ্বাস এরা যাই করুক, বছরে কয়েকদিন জুম্মাঘরে যাওয়া ছাড়া আচার–আচরনে এবং অন্য সমস্ত ব্যাপারে চিন্তাভাবনায়ও এদের সাথে আমার কোনো তফাত নাই। চারপাশের এই সাধারন মুসলমানদের ধর্মীয় চিন্তাভাবনা, বানী, আদর্শ ও বিশ্বাসের সাথে তাদের আচার–আচরন এবং জীবনযাত্রার পার্থক্য তুলে ধরার আগ্রহ থেকে এ লেখা।
এই উচ্চ শিক্ষিত মানুষগুলো ব্যবহারিক ভাবে একেবারে গোড়া ধার্মিক ও না আবার কথাতে একেকজন ধর্মগুরুদের মত। তথাকথিত সাধারন ধার্মিক মুসলমানগনও মুখে বলে ধর্মের আদর্শগত রূপের কথা, আর আকরে ধরে ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটাকেই। আদর্শ ভুলে ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটাকে আকরে ধরার ফলেই আজকের এই বিভেদ, হিংসা, মারামারি, মানুষ হত্যা । ধর্মগুলোতে খোদার যে সর্বশক্তিমান, মহানুভব রূপের বর্ণনা দেয়া আছে, যা এই ধার্মিকের দল সকাল বিকাল জিকির করে, তোষামোদ করে, তারা কখনো ভাবে না যে এ কেমন মহানুভব খোদা যে সৎকর্ম, সদাচার, কর্তব্যকর্ম, সমাজ হিতকর কর্মের চেয়ে উপাসনা পদ্বতি, সংস্কার রীতিনীতি আর পরকাল বিষয়ক মতামতে বেশি মূল্য দেয়!!!
মৌলিক বিশ্বজনীন আদর্শগুলাকে এরা ধর্মের লেবেলে মুড়িয়ে এরা যেমন নির্লজ্জ ভাবে প্রচার করে ঠিক তেমনি সামাজিক ভন্ডামির সহিত পালনও করে। উদাহরন??? কুরবানির উদ্দেশ্য নাকি আত্মত্যাগ, এই আত্মত্যাগ হলো ইসলামের আদর্শ। আর এই আত্মত্যাগ এরা করে লোক দেখানো গরু খাওয়ার মত সামাজিক ভন্ডামির মাধ্যমে। রোজা হচ্ছে আত্মসংযম। আর এই আত্মসংযম এরা করে দিনে না খেয়ে, সাথে ভিন্ন ধর্মীদের উপর চাপ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পন্যের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে। আর ভন্ডামি শুরু হয় মাগরিবের পর। সৎকর্ম, সদাচার এই গুলা নিয়া প্রতিযোগিতা হয় না, প্রতিযোগিতা হয় গরু খাওয়া নিয়া। আর খুনোখুনী হয় গরুখোর আর গরু যারা খায় না তাদের মধ্যে। আহা! কি সুন্দর আদর্শ!
আমার আশেপাশের এইসব উচ্চশিক্ষিত মুসলমানের দলের প্রায় সবাই বাস্তববাদী, উচ্চশিক্ষিত জীবনমুখী মানুষ। এরা সবাই গর্বিত মুসলমান। বিশ্বাস এরা যতটুকুই করুক না কেন কথায় পুরা ১০০% বিশ্বাসী। নাকের মিরাকল, চোখের মিরাকল মার্কা সমস্ত ডকুমেন্টারি এদের আয়ত্তে। বিজ্ঞানের সমস্ত ব্যখ্যা যে কোরানে আছে এটা আয়াত সহ ব্যখ্যা করে বু্ঝিয়ে দিতে পারবে। কোরান হাদিস পুরা ঝাড়াঝাড়া। অমুক বিজ্ঞানী, ডাক্তার, কি বলল তা নিয়ে স্বীয় ধর্মকে প্রশ্নের উর্ধে রাখার বিফল প্রয়াস। টেরোরিস্টরা এদের মতে কোরানের ভুল ব্যখ্যাকারী, আবার ৯/১১ সম্পর্কে এদের মতামত হচ্ছে আমেরিকার একটা শিক্ষার দরকার ছিল। আইএসএস, আফগানের তালিবান, বাংলাদেশের হরাকতুল জিহাদ, জেএমবি সব ইসলামের রক্ষক।
আমেরিকার ইরাক আক্রমন হচ্ছে মানবতার বিরুদ্ধে আক্রমন আর ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলযির বাংলা আক্রমন হচ্ছে মানবতার জন্য আক্রমন। এরাই হচ্ছে উচ্চশিক্ষিত মুসলমান।
অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে উচ্চশিক্ষিত মুসলমানদের প্রাথমিক ধারনা হচ্ছে এরা কোরান পড়ে না তাই অবিশ্বাসী। একজন অবিশ্বাসী কোরান এর আয়াত নিয়ে কথা বললে এরা বলবে শানে–নজুল জানে না তাই অবিশ্বাসী। শানে–নজুল আর আয়াত একত্র করে দেখলে এরা বলে এই আয়াত রূপক অর্থে লেখা, এর আসল ব্যখ্যা জানে আলেমের দল। আর যে আলেমের লেখা তাদের ভালো লাগে না তারা হচ্ছে ভুল ব্যখ্যাকারী। আর এই ভুল ব্যখ্যাকারী আলেমের দল যেই ব্যাক্ষা দেওয়া হয় তাদের থেকেই হয় টেরোরিস্ট বা ফিতনা সৃষ্টিকারী।
আবিশ্বাসীদের সম্পর্কে এদের প্রাথমিক ধারনাটা ভুল। মুসলমান থেকে যারা অবিশ্বাসী হয়, কোরান পড়েই এদের অবিশ্বাস শুরু হয়। শানে–নজুল, হাদিস আর আলেমদের লেখায়ও যারা বিশ্বাস যোগ্য কিছু খুজে পায় না তারাই হয় অবিশ্বাসী। এই অবিশ্বাস দৃঢ় হয় যখন তারা বিবর্তনবাদ সম্পর্কে জানে, প্রকৃত ইতিহাস জানে ও জানবার প্রবল আকাঙ্খা রাখে, আল্লাহ তাদের দিলে তালা মেরে রেখেছে এই জন্য না। অবিশ্বাসীরা প্রশ্ন করে, জানতে চায়, বুঝতে চায়। এই জানতে চাওয়া, বুঝতে চাওয়া কাউকে ভুল ব্যখ্যাকারী বানায় না, বানায় সত্যসন্ধানী। আর এই মুক্তমনা সত্যসন্ধানীদের মধ্যে যারা পারিবারিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় কুসংস্কারের উর্ধ্বে উঠতে পারে তারাই হয় অবিশ্বাসী, কোরানের ভুল ব্যখ্যাকারী না। একজন অবিশ্বাসী যতটা যুক্তীবাদী, আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মমর্যাদাসচেতন বলে অন্যায়-অপকর্ম হতে বিরত থাকে। একজন শিক্ষিত বিশ্বাসী ততটাই তার উলটো। তারা আসমানি কিতাবে বিশ্বাস, ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস রেখেও এ হেন অন্যায়-অপরাধ- অপকর্ম নেই যা করে না। এর মাঝে যৎসামান্যই লোকনিন্দা, রোষের, এমন কি সরকারী আইনি শাস্তির ভয়ে বিরত থাকে। তাহলে ধর্মশাস্ত্রের ভূমিকা কতটুকু কার্যকর!
যখন উচ্চশিক্ষিত মুসলমানরা বলে যে তারা নিয়মিত কোরান পড়ে, অবিশ্বাসীরা বরং অবাক হয়,উচ্চশিক্ষিত মুসলমানদের প্রশ্ন করার সুযোগ পায়, জানতে চাওয়ার এবং বুঝতে চাওয়ার অক্ষমতা দেখে, অবাক হয় তাদের শিক্ষার মান দেখে; পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংকীর্নতার জালে জড়িয়ে পরা দেখে। এই মুসলমানের দল যখন অবিশ্বাসী আর কট্টর বিশ্বাসীদের বলে ভুল ব্যখ্যাকারী, তখন এদের ঠিক–ব্যখ্যা (!!!) সম্পর্কে জানার আগ্রহ একটুতো হয়ই।
এদের ঠিক ব্যখ্যা হচ্ছে কোরান একটি পূর্নাংগ জীবনাদর্শন একমাত্র জীবন বিধান। এই জীবনে যা জানার আছে তার সবই কোরানে আছে। দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য যা জানা দরকার তার সবই আছে কোরানে আর হাদিসে। জ্ঞান বিজ্ঞানের চাবিকাঠি এই কোরান। যেহেতু কোরান আল্লাহর বানী এবং হাদিস নবীর বানী, তাই এখানে কোন ভুল থাকতে পারে না। এই ঠিক ব্যখ্যাকারীর দল হচ্ছে স্বঘোষিত বিশ্বাসীর দল।
এই ঠিক ব্যখ্যাকারী উচ্চশিক্ষিত,স্বঘোষিত বিশ্বাসী মুসলমানরা বিশ্বাস করে ঠিকই, কিন্তু কতটুকু? বিশ্বাস মাপার কোন দাড়িপাল্লা নাই, তাই বিশ্বাস মাপতে হয় কর্মকান্ড দেখে। এদের অধিকাংশের কর্মকান্ড দেখে বুঝার কোন উপায় নাই যে এরা বিশ্বাসী। বছরে কয়েকবার জুম্মা পরা আর কয়েকদিন না খেয়ে রোজা থাকা ছাড়া জীবনযাত্রায় এদের সাথে অবিশ্বাসীদের কোন তফাত নাই। এক ওয়াক্ত নামাজ না পরার শাস্তি নাকি ১ লক্ষ ৮৪ হাজার বছর দোযখে পোড়ানো। একটা মানুষ যে বলে সে মনে প্রানে ইসলামে বিশ্বাস করে, সে কিভাবে নামায পরে না। দোযখের শাস্তির বর্ণনা এবং কারন জানার পরও এরা ধর্ম পুরাপুরি পালন করে না। অথচ এই একই লোক আবার দুনিয়াদারীর কোন ব্যপারে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয় না। ধর্ম এরা মনমত মানে, কিছু মানে, কিছু মানে না। অথচ ইসলাম ধর্মে এমন ইচ্ছা মত মানার কোন সুযোগের কথা বলা নাই। সব জানার পরেও, ধর্মের কোন কিছু ঠিক ভাবে পালন না করলেও, এরা মুসলমান। এই ঠিক ব্যখ্যাকারী বিশ্বাসীর দলই আবার আবিশ্বাসীদের নৈতিকতা এবং আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে। এরা মনে করে সুপারমলে এরা চুরি করে না খোদায় ভয়ে (!!!), মলকূপ এর ভয়ে না।
বিশ্বাসী মুসলমানদের এই কোরান হাদিস না মানার কোন অজুহাত নাই। এরা বলতেও পারেনা যে কোরান মেনে জীবন যাপন সম্ভব না, কারন এইটা বলা আবার ধর্মে নিষেধ আছে। এরা তাই বলে “চেষ্টা করি”। এই চেষ্টা করি বলাটাও তাদের বিশ্বাস করি বলার মত আরেকটা মিথ্যা। এরা দুনিয়াদারীর কোন সামান্য জিনিসের জন্য যতটুকু চেষ্টা করে, তার কানাকড়িও করে না ধর্মের জন্য। এরা হচ্ছে সেই ইমামের মত যে সারাদিন মসজিদে বসে জিকির করে আল্লাহ রাজ্জাক আল্লাহ রাজ্জাক (আল্লাহ রিজিকদাতা), আর মহল্লার মানুষ যখন বলে হুযুর সামনের মাসে বেতন দিতে পারবনা তখন এই মসজিদ বাদ দিয়া অন্য মসজিদে চলে যায়। সারাদিন যে জিকির করল আল্লাহ রিজিকদাতা, সেই আল্লাহ যে রিজিক দিতে পারে এই বিশ্বাস নাই, বিশ্বাস আছে সামনের মাসে এই মহল্লার মানুষ যে বলছে বেতন দিতে পারব না তার উপর, বিশ্বাস আছে নতুন মসজিদের মুসুল্লিদের উপর।
চারপাশের উচ্চশিক্ষিত বিশ্বাসী মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস আর ধর্ম পালনের চেষ্টারও একই অবস্থা। এরা জানে এদের বিশ্বাসে ঘাপলা আছে, বিশ্বাস এদের যায় যায় অবস্থা, তাই এদের ধর্মানুভুতি খুব বেশি। তাইতো ধর্মের কথায় এর ঝাপিয়ে পরে, সহনশীলতার ধার ধারেনা। কথায় কথায় এরা মনে করিয়ে দেয় ইসলামের ইতিহাস, নবীর উপর ধর্মের কারনে অত্যাচার, আর নবীর সব মাফ করে দেয়া।
এই মুখে খোদায় বিশ্বাসী, এবং কাজ কর্মে খোদার আদেশের ধার ধারিনা মার্কা নিজের সাথে প্রতারনা করা, ভন্ড, নাম– স্বর্বস্ব মুসলমানরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ। এরা টেরোরিস্ট না, কারন এরা কোরান হাদিস পুরাপুরি মানে না, এবং আত্মঘাতী হওয়ার মত অসৎ সাহস এদের নাই। এই সংখ্যা গরিষ্ঠ ভন্ড বিশ্বাসীদের আপত দৃষ্টিতে নিরীহ গোবেচারা মনে হলেও এরা তা না। এরাই ধর্মীয় সমস্ত অপকর্মের সামনের সাড়িতে থাকে। অন্ধবিশ্বাসে ধর্মান্ধ এরা নিজের ও তাদের খোদার সাথে বছরের পর বছর প্রতারনার ফলে এদের ভিতর জমতে থাকে ক্ষোভ। এই ক্ষোভ নিয়া ঘাপটি মেরে থাকে এরা, তাই ধর্মীয় সংঘাতে এরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ। আজকে দেশে ধর্মের নামে যে উন্মাদনা, একের পর এক ব্লগারকে টার্গেট করে হত্যা করায় এরা পেয়েছে পৈশাচিক আনন্দ। যা বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত টাইমলাইনে, বিভিন্ন গ্রুপে পোস্টের মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে। এই সংখ্যা গরিষ্ঠরাই তার উৎসাহ দাতা। এরা টেরোরিস্টদের কর্মকান্ডে পুলকিত হয়, লজ্জায় কাঠমোল্লাদের সাথে মিছিলে যায় না। কিন্তু এরাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাতিয়ার। মৌলবাদের মদতদাতা। এদের চিনে রাখুন, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
তাল পাতার সেপাই👣
(মূল ভাবনা আব্দুলাহ আল মামুন ভাই)
http://facebook.com/http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=4944812028068367012
Friday, 22 June 2018
Sunday, 10 June 2018
ধর্ম
মুহম্মদের সফলতার গোপন কারনসমূহ!
মুহাম্মদের সফলতার গোপন কারনঅনুবাদকঃ তালপাতার সেপাই।
মূল The Secret of Muhammad success
Writer: Ali Sina.
সাধারনত সমাজে যেকোন রীতির সীমিত প্রভাব বিদ্যমান । সুতরাং, কিভাবে ইসলাম সফলভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হয়ে উঠতে পেরেছে ? কিভাবে অনেক মানুষ, তাদের মধ্যে, অগণিত বুদ্ধিমান মানুষ, সম্পূর্ণভাবে এর মধ্যে পরে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই মিথ্যাবাদীতার শক্তি পরীক্ষা করতে হবে। মিথ্যা সম্পর্কে একজন মিথ্যুকের চেয়ে আর কে বেশী জানে? মিথ্যা এবং মহান প্রতারণার এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিল 'জোসেফ গিববেল', হিটলারের প্রচার মন্ত্রী। তিনি একবার বলেছিলেন: "যদি আপনি একটি বড় মিথ্যা বলে থাকেন, যা প্রায়শই যথেষ্ট, তা সময়ের প্রেক্ষাপটে সত্য হয়ে যায়।" একটি মিথ্যা একটি প্রধান বিশ্ব ধর্ম হতে পারে কিভাবে? আলোচনার মধ্যে যাওয়ার আগে, উত্তর পেতে আগে এই বিষয়টি ঘিরে যে কিছু লজিকাল ভ্রান্তি রয়েছে, তা বিবেচনা করা যাক।
আধুনিকতার প্রতিবাদ: এই ভ্রান্তিটি দাবি করে যে, এটি দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকলে, একটি বিশ্বাস সত্য হওয়া উচিত, কারণ "এটি যেভাবেই হোক না কেন।" এই ভুলত্রুটি মুসলিম এপোলজিস্টদের এর একটি প্রিয় যুক্তি। আরবী ভাষায় তাকরির বা তাখর নামে পরিচিত। ভ্রান্ত ধারনা বলে যে ইসলাম 1400 বছরের ধরে স্থায়ী হয়েছে এবং তাই এটি সত্য হতে হবে!
হাজার হাজার বছর ধরে এমন অনেক থিসিস রয়েছে যা অবশেষে ভ্রান্ত বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক ধরনের তত্ত্ব ছিল ভূগর্ভস্থতা। এর মাঝে সর্বাধিক আলোচিত তত্ত্ব ছিল গ্যালিলিওর বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে পৃথিবীর অবস্থান বিষয়ক যদিও অধিকাংশ লোক এ মতবাদে বিশ্বাস করতেন না। এ বিশ্বাস টি মানব জাতির
হিসাবের মতই পুরাতন ছিল। ধারনা করা হতো সূর্য, চাঁদ এবং অন্যান্য মহাজাগতিক গ্রহ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। অনেকেই এ মতবাদটি কে আপত্তি করেছিল। এমনকি দীর্ঘস্থায়ী ট্র্যাক রেকর্ড এবং প্রাচীনত্ব সত্ত্বেও, ভূগোলবাদী তত্ত্ব এখন মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
আর্গুমেন্টাম সংখ্যা: আরেকটি যৌক্তিক ভ্রান্তি যা মুসলমানরা জড়িয়ে ধরে থাকে। মুসলমানরা এই বলে থাকে যে, মানবতার একটি মহান অংশ ইসলামে বিশ্বাস করে সেহেতু তা সত্য হতে হবে। তারা একথা তুলে তর্ক জুড়ে দেয় যে "এত লোক কিভাবে ভুল হতে পারে?"
আর্গুমেন্ট সংখ্যাটি আরো দাবি করে যে, এটা সত্য বলেই লোকেরা একে জড়িয়ে থেকে একে সমর্থন করে, বিশ্বাস করে থাকে।
ঠিক যেমন কিছু সত্য মিথ্যা হয় না যদি কেউ এতে বিশ্বাস না করে।
এমন কিছু যা সত্য নয় তা সত্য না হয়ে গেলে অনেকে বিশ্বাস করে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐক্যমত্যের উপর সত্যকে দমন করা যায় না। তথ্য বিশ্বাসের স্বাধীনতার বিদ্যমান।আমরা একটি মতামত জরিপ চালানোর মাধ্যমে সত্য সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। যদি একটি জরিপ করা হয় পৃথিবী সমতল কি না এ নিয়ে বহু বিশ্বাসী আছেন তারা একথা বিশ্বাস করেন যে পৃথিবী সমতল! কমলালেবুর মতো চ্যাপ্টা নয়। পৃথিবী কখনও সমতল ছিল না, এমনকি সবাই যখন বিশ্বাস করেছিল।
Subscribe to:
Posts (Atom)
পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম
পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম। ইসলাম কি পৌত্তলিকতা মুক্ত? সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোস্ট কারো ধর্মমত কে হেয় করতে বা ধর্মানুভুতিতে আঘাত ...
-
পৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদী ইসলাম। ইসলাম কি পৌত্তলিকতা মুক্ত? সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোস্ট কারো ধর্মমত কে হেয় করতে বা ধর্মানুভুতিতে আঘাত ...
-
তুমি উটমূত্রপায়ী জীব হলে, আমি গোমূত্রপায়ী জীব হব না কেনো? সম্প্রতি একটি খবর অনলাইনে বেশ আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে। খবর টি হলো ভারতীয় এক মূখ্...
-
মুহম্মদের সফলতার গোপন কারনসমূহ! মুহাম্মদের সফলতার গোপন কারন অনুবাদকঃ তালপাতার সেপাই। মূল The Secret of Muhammad success Writer: Ali Sin...